মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জানেন কী? বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন একটি জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প ট্রেন হিসেবে পরিচিত। এই ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের রাজশাহী থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত যাত্রীদের সুবিধাজনক ভ্রমণ সুযোগ প্রদান করে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এর রুট আরও বর্ধিত হয়েছে। যা যাত্রীদের সময় বাঁচায় ও আরামদায়ক করে তোলে।
আজকেট এই আর্টিকেলে আজ আমরা মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানানোর পাশাপাশি রুট, ভাড়া, সুবিধা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের সাম্প্রতিক আপডেটের উপর ভিত্তি করে সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হয়। তবে প্রথমেই আমরা মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পর্কে জেনে নিবো।
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি
মধুমতি এক্সপ্রেস যা ট্রেন নম্বর ৭৫৫/৭৫৬ হিসেবে পরিচিত। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের একটি আন্তঃনগর ট্রেন। এটি ২০০৩ সালে চালু হয়েছে ও বর্তমানে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলে। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের ট্রেনটির নামকরণ হয়েছে মধুমতি নদীর নামানুসারে। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীদের জন্য একটি দ্রুত ও নিরাপদ মাধ্যম বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের জন্য।
রুট এবং স্টপেজের বিস্তারিত তথ্য
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট রাজশাহী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে। পথে এটি পদ্মা সেতু অতিক্রম করে যা যাত্রাকে আরও দ্রুত করে। মোট রুটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার ও যাত্রা সময় লাগে আনুমানিক ৭-৮ ঘণ্টা।
ট্রেনটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। যেমন ঈশ্বরদী, পাকশী, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, পোড়াদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ভাঙ্গা, শিবচর, পদ্মা ও মাওয়া। এই স্টপেজগুলো যাত্রীদের সুবিধার জন্য নির্ধারিত। উদাহরণস্বরূপ, কুষ্টিয়া থেকে অনেক যাত্রী উঠেন, যা শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত।
স্টপেজ লিস্ট:
- রাজশাহী (প্রস্থান স্টেশন)
- ঈশ্বরদী
- পাকশী
- ভেড়ামারা
- পোড়াদহ
- কুষ্টিয়া
- কুমারখালী
- খোকসা
- পাঙ্গশা
- কালুখালী
- রাজবাড়ী
- ফরিদপুর
- তালমা
- পুকুরিয়া
- ভাঙ্গা
- শিবচর
- পদ্মা
- মাওয়া
- ঢাকা (আগমন স্টেশন)
এই রুটটি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার সুযোগ দেয়, বিশেষ করে পদ্মা নদী অতিক্রমের সময়। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এই স্টপেজগুলোকে বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে।
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ সালে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। যা যাত্রীদের সুবিধার জন্য। ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে ও ছুটির দিন শনিবার। নিচের ছকে বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো।
রাজশাহী থেকে ঢাকা (ট্রেন নম্বর ৭৫৬)
| স্টেশনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
| রাজশাহী | ০৬:৪০ | – |
| ঈশ্বরদী | ০৭:৪০ | ০৭:৪৫ |
| পাকশী | ০৮:১০ | ০৮:১৫ |
| ভেড়ামারা | ০৮:৪০ | ০৮:৪৫ |
| পোড়াদহ | ০৯:০৫ | ০৯:১০ |
| কুষ্টিয়া | ০৯:৩০ | ০৯:৩৫ |
| রাজবাড়ী | ১০:৩০ | ১০:৩৫ |
| ফরিদপুর | ১১:৪০ | ১১:৪৫ |
| ভাঙ্গা | ১২:১৫ | ১২:২০ |
| শিবচর | ১২:৪৫ | ১২:৫০ |
| পদ্মা | ১৩:১০ | ১৩:১৫ |
| মাওয়া | ১৩:৩৫ | ১৩:৪০ |
| ঢাকা | – | ১৪:২০ |
ঢাকা থেকে রাজশাহী (ট্রেন নম্বর ৭৫৫)
| স্টেশনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
| ঢাকা | ১৫:০০ | – |
| মাওয়া | ১৫:৪৫ | ১৫:৫০ |
| পদ্মা | ১৬:১০ | ১৬:১৫ |
| শিবচর | ১৬:৩৫ | ১৬:৪০ |
| ভাঙ্গা | ১৭:০০ | ১৭:০৫ |
| ফরিদপুর | ১৭:৩০ | ১৭:৩৫ |
| রাজবাড়ী | ১৮:০০ | ১৮:০৫ |
| কুষ্টিয়া | ১৯:০০ | ১৯:০৫ |
| পোড়াদহ | ১৯:২৫ | ১৯:৩০ |
| ভেড়ামারা | ১৯:৫০ | ১৯:৫৫ |
| পাকশী | ২০:১৫ | ২০:২০ |
| ঈশ্বরদী | ২০:৪০ | ২০:৪৫ |
| রাজশাহী | – | ২২:৪০ |
এই সময়সূচী বাংলাদেশ রেলওয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুসারে তৈরি। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে সেহেতু অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চেক করুন।
ছুটির দিন এবং বিশেষ নোট
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের ছুটির দিন শনিবার, যা ২০২৫ সালের আপডেট অনুসারে। শনিবারে দিনে ট্রেন চলে না। তাই যাত্রা পরিকল্পনা করার সময় এটি মনে রাখুন। বিশেষ ছুটির দিনে বা আবহাওয়া সমস্যায় সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে।
যাত্রীরা ট্রেন ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন, যা রেলওয়ের ওয়েবসাইটে উপলব্ধ। এতে রিয়েল-টাইম অবস্থান জানা যায়।
টিকিট ভাড়া এবং বুকিং পদ্ধতি
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া যাত্রীদের ক্লাস অনুসারে ভিন্ন। নিচে টেবিলে ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (১৫% ভ্যাট সহ)।
| ক্লাসের নাম | ভাড়া (টাকা) |
| শোভন চেয়ার | ৫৮৫ |
| প্রথম সিট | ৮৯৭ |
| স্নিগ্ধা (এসি) | ১১১৬ |
| এসি বার্থ | ১৭৮১ |
টিকিট বুকিং করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd ব্যবহার করুন অথবা মোবাইল অ্যাপ। অগ্রিম বুকিং করলে সিট নিশ্চিত হয়। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুসারে টিকিট কাটুন।
ট্রেনের সুবিধাসমূহ
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে, যা এটিকে জনপ্রিয় করে তোলে। নিচে লিস্টে সুবিধাগুলো উল্লেখ করা হলো:
- এসি কোচ: শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, যা গরমের দিনে আরামদায়ক।
- ডাইনিং কার: খাবারের ব্যবস্থা, যেখানে স্ন্যাকস এবং খাবার পাওয়া যায়।
- পাওয়ার সকেট: মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সিসিটিভি এবং গার্ড উপস্থিত।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত ক্লিনিং সার্ভিস।
- ওয়াইফাই: কিছু কোচে ওয়াইফাই সুবিধা চালু হয়েছে।
- প্রতিবন্ধী সুবিধা: বিশেষ আসন এবং র্যাম্প।
এই সুবিধাগুলো যাত্রাকে আনন্দময় করে। ২০২৫-এ নতুন রেকে আরও সুবিধা যুক্ত হয়েছে, যেমন বেশি আসন।
ভ্রমণ টিপস এবং সতর্কতা
মধুমতি এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করার আগে কিছু টিপস মেনে চলুন। প্রথমে, টিকিট অগ্রিম কিনুন, কারণ ছুটির সময় সিট পাওয়া কঠিন। দ্বিতীয়ত, স্টেশনে সময়মতো পৌঁছান, যাতে ছুটে না যান। তৃতীয়ত, লাগেজ কম রাখুন, এবং নিরাপদে রাখুন।
সতর্কতা হিসেবে, মাস্ক ও স্যানিটাইজার সাথে রাখুন, বিশেষ করে মহামারী পরিস্থিতিতে। আবহাওয়া চেক করুন, কারণ বৃষ্টিতে দেরি হতে পারে। শিশু বা বয়স্কদের সাথে থাকলে বিশেষ যত্ন নিন। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুসরণ করে ভ্রমণ করলে সমস্যা কম হবে।
আরও জানতে পারেনঃ রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
শেষ কথা
মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সময়সূচী, রুট ও সুবিধা যাত্রীদের জন্য আদর্শ। ২০২৫ সালে নতুন পরিবর্তনের ফলে এটি আরও জনপ্রিয় হবে। যাত্রা করার আগে সর্বদা অফিসিয়াল সোর্স থেকে তথ্য যাচাই করুন। যাতে কোনো অসুবিধা না হয়। আপনার নিরাপদ ভ্রমণ কামনা করি।