উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী (আপডেট তথ্য)

উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জানতে চান? চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার জন্য উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। আমি নিজে একজন রেল যাত্রী হিসেবে বহুবার এই রুটে ভ্রমণ করেছি ও প্রতিবারই পাহাড়ি পথের দৃশ্যাবলী আমাকে মুগ্ধ করেছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমি উদয়ন এক্সপ্রেসের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করবো যাতে আপনি সহজেই আপনার যাত্রা পরিকল্পনা করতে পারেন। এখানে সময়সূচী, রুট, ভাড়া, টিকেট কেনার উপায়ও কিছু ব্যক্তিগত টিপস শেয়ার করব। 

উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য

উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথম চালু হয় ১৯৮৮ সালের ২৬ মে। তখন থেকে এটি চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। ট্রেন নম্বর ৭২৩/৭২৪ দিয়ে পরিচিত। বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এই রুটটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কারণ এটি সমুদ্রতীরের চট্টগ্রামকে পাহাড়ি সিলেটের সাথে যুক্ত করে। যাত্রা পথে আপনি চা বাগান, পাহাড় ও নদী দেখতে পাবেন, যা রোড ট্রিপের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। আমার অভিজ্ঞতায়, রাতের যাত্রায় জানালা দিয়ে চাঁদের আলোয় পাহাড় দেখা একটি অবিস্মরণীয় অনুভূতি। এই ট্রেনটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং পর্যটকদের জন্য অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে যুক্ত হয়।

বর্তমানে ২০২৫ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু পরিবর্তন এনেছে সময়সূচীতে  যাতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু স্টপেজের সময় সামান্য পরিবর্তিত হয়েছে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের জন্য। যদি আপনি সিলেটের চা বাগান বা চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। তাহলে এই ট্রেনটি আদর্শ। এখন আসুন মূল বিষয়ে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।

উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী: চট্টগ্রাম থেকে সিলেট

উদয়ন এক্সপ্রেস মূলত রাতের ট্রেন যা যাত্রীদের রাতে ঘুমিয়ে সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা দেয়। ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক সময়সূচী অনুসারে, ৭২৩ নম্বর ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে রাত ৯:৪৫ মিনিটে এবং সিলেট পৌঁছায় সকাল ৬:০০ মিনিটে। ট্রেনটির মোট যাত্রা সময় প্রায় ৮ ঘন্টা। ছুটির দিন শনিবার অর্থাৎ এই দিন ট্রেন চলে না।

স্টেশন আগমন সময় ছাড়ার সময়
চট্টগ্রাম ২১:৪৫
ফেনী ২৩:১৫ ২৩:১৭
লাকসাম ০০:১৫ ০০:১৭
কুমিল্লা ০০:৩৫ ০০:৩৭
আখাউড়া ০১:৪৫ ০১:৪৭
শায়েস্তাগঞ্জ ০২:৫০ ০২:৫৩
শ্রীমঙ্গল ০৩:৩০ ০৩:৩৫
শমশেরনগর ০৪:০০ ০৪:০২
কুলাউড়া ০৪:৩০ ০৪:৩২
সিলেট ০৬:০০

এই সময়সূচীটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ড্রাফট থেকে নেওয়া। কখনো কখনো ট্রেন লেট হয়, যেমন আমার একবার যাত্রায় ফেনী স্টেশনে ৩০ মিনিট দেরি হয়েছিল সিগন্যাল সমস্যার জন্য। তাই সবসময় ১ ঘন্টা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখুন।

উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী: সিলেট থেকে চট্টগ্রাম

অন্যদিকে, ৭২৪ নম্বর ট্রেনটি সিলেট থেকে ছাড়ে রাত ৯:৪০ মিনিটে এবং চট্টগ্রাম পৌঁছায় সকাল ৬:০০ মিনিটে। ছুটির দিন রবিবার। যাত্রা সময়ও প্রায় ৮ ঘন্টা।

স্টেশন আগমন সময় ছাড়ার সময়
সিলেট ২১:৪০
কুলাউড়া ২২:৫০ ২২:৫২
শমশেরনগর ২৩:১৫ ২৩:১৭
শ্রীমঙ্গল ২৩:৪৫ ২৩:৫০
শায়েস্তাগঞ্জ ০০:২৫ ০০:২৮
আখাউড়া ০১:৩০ ০১:৩২
কুমিল্লা ০২:৪০ ০২:৪২
লাকসাম ০৩:০০ ০৩:০২
ফেনী ০৩:৪৫ ০৩:৪৭
চট্টগ্রাম ০৬:০০

এই রুটে পাহাড়ি এলাকায় ট্রেনের গতি কম হয়, তাই সময়সূচী অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আমি সিলেট থেকে ফিরে আসার সময় এই ট্রেন নিয়েছি, এবং শ্রীমঙ্গল স্টেশনে চা খেয়ে যাত্রা আরও উপভোগ্য হয়েছে।

আরও জানতে পারেনঃ মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা ২০২৫

ভাড়া এবং আসনের শ্রেণীবিভাগ

উদয়ন এক্সপ্রেসে বিভিন্ন শ্রেণীর আসন রয়েছে, যাতে সবার বাজেটে মানানসই হয়। ২০২৫ সালের ভাড়া তালিকা নিম্নরূপ (চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের জন্য):

আসনের শ্রেণী ভাড়া (টাকা)
শোভন চেয়ার ৩৪৫
শোভন ২৯০
প্রথম শ্রেণী চেয়ার ৪৬০
প্রথম বার্থ ৬৯০
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ৬৬৫
এসি সিট ৮০৫
এসি বার্থ ১২১০

এই ভাড়াগুলো ভ্যাট সহ ও অনলাইন টিকেট কেনার সময় সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। আমার পরামর্শ, যদি আপনি রাতের যাত্রা করেন তাহলে এসি বার্থ নিন – এতে ঘুম ভালো হয় ও ধুলো-বালি থেকে রক্ষা পান। শোভন চেয়ার কম খরচ হতে পারে কিন্তু লং জার্নির জন্য কম আরামদায়ক।

টিকেট কেনার উপায় এবং টিপস

টিকেট কেনা এখন খুব সহজ। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট esheba.cnsbd.com থেকে অনলাইন টিকেট কিনতে পারেন। অ্যাপও রয়েছে, যেখানে আপনি NID বা পাসপোর্ট দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন। স্টেশন কাউন্টার থেকেও টিকেট পাওয়া যায়।কিন্তু অগ্রিম বুকিং করুন কারণ এই ট্রেনটি সবসময় ফুল থাকে। আমি একবার লাস্ট মিনিটে গিয়ে টিকেট পাইনি তাই অনলাইনে টিকিট কাটাকেকে বেশি প্রেফার করি।

কালোবাজারি এড়াতে সতর্ক থাকুন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়। যদি ট্রেন লেট হয় তাহলে রেলওয়ে অ্যাপ থেকে লাইভ স্ট্যাটাস চেক করুন।

যাত্রার সুবিধা এবং অসুবিধা

উদয়ন এক্সপ্রেসে আধুনিক কোচ রয়েছে, যেমন এসি, ফ্যান, চার্জিং পয়েন্ট ও পরিষ্কার টয়লেট। খাবারের জন্য ক্যান্টিন কার রয়েছে: যেখানে চা, কফি, স্ন্যাকস পাওয়া যায়। তবে আমার অভিজ্ঞতায়, নিজের খাবার নেওয়া ভালো কারণ ক্যান্টিনের দাম একটু বেশি। 

যাত্রীদের জন্য ব্যক্তিগত টিপস

আমি বহুবার এই রুটে গিয়েছি, তাই কিছু টিপস শেয়ার করছি। প্রথমত, শীতকালে যান – দৃশ্য আরও সুন্দর হয়। দ্বিতীয়ত, জানালার সিট বুক করুন পাহাড় দেখার জন্য। তৃতীয়ত, মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখুন, কারণ কোভিড পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। যদি লাগেজ বেশি হয়, তাহলে পোর্টার নিন কিন্তু দাম চেক করুন।

উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার যাত্রা সহজ হবে। এই ট্রেনটি বাংলাদেশের রেল নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং এর মাধ্যমে আপনি দেশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, রেলওয়ে হেল্পলাইন ১৬৫১৮-এ কল করুন। নিরাপদ যাত্রা!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top