লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য। লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ রেলপথ বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাকে সংযুক্ত করে। যা যাত্রীদের জন্য একটি জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ বিকল্প। ময়মনসিংহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ময়মনসিংহ জেলা তার ঐতিহাসিক তাৎপর্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এই জেলাটি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা হিসেবে পরিচিত। ময়মনসিংহ জেলা ব্রাহ্মপুত্র নদী, হাওর এলাকা ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি যাত্রীদের আকর্ষণ করে।
অন্যদিকে, লাকসাম কুমিল্লা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন যা চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এই রুটটি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার লম্বা ও ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রা সময়সাপেক্ষ হলেও ভ্রমনকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এই লেখায় আমরা লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, স্টেশন বিরতি, টিকিট কেনার পদ্ধতি, ভ্রমণের টিপস এবং ময়মনসিংহের আকর্ষণীয় স্থানগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। যাতে আপনার যাত্রা সুবিধাজনক ও স্মরণীয় হয়।
লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ ট্রেনের সময়সূচী
বর্তমানে এই রুটে শুধুমাত্র একটি আন্তঃনগর ট্রেন বিজয় এক্সপ্রে পরিচালিত হয়। এই ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সার্ভিস। যা যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেয়। ট্রেনটি সকাল ১১:৩৮ মিনিটে লাকসাম থেকে ছাড়ে ও বিকেল ৫:৩৫ মিনিটে ময়মনসিংহে পৌঁছায়, অর্থাৎ যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা। এটি বুধবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন চলে। কিন্তু ছুটির দিন বা বিশেষ অনুষ্ঠানে সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে। নিচে ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | লাকসাম ছাড়ার সময় | ময়মনসিংহ পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
| বিজয় এক্সপ্রেস | ৭৮৫ | সকাল ১১:৩৮ | বিকেল ৫:৩৫ | বুধবার |
যদি আপনি বিজয় এক্সপ্রেসে না পান তাহলে লাকসাম থেকে কুমিল্লা বা ঢাকা দিয়ে বাস বা অন্য ট্রেনে যাওয়া যায়। কিন্তু সরাসরি ট্রেনটি সবচেয়ে সুবিধাজনক। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে রিয়েল-টাইম আপডেট চেক করুন৷ কারণ আবহাওয়া বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বিলম্ব হতে পারে।
লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ রুট ও স্টেশন বিরতি
বিজয় এক্সপ্রেস এই রুটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। যা যাত্রীদের মাঝপথে নামার সুযোগ দেয়। রুটটি মূলত চট্টগ্রাম-আখাউড়া লাইন ও নারায়ণগঞ্জ-ময়মনসিংহ লাইনের মাধ্যমে যায়। নিচে স্টেশন এবং তাদের আগমন-প্রস্থানের সময় দেওয়া হলো:
| স্টেশন | আগমন | প্রস্থান |
| লাকসাম | সকাল ১১:৩৬ | সকাল ১১:৩৮ |
| কুমিল্লা | দুপুর ১২:১০ | দুপুর ১২:১০ |
| আখাউড়া | দুপুর ১:১৮ | দুপুর ১:২০ |
| ভৈরব বাজার | দুপুর ২:০০ | দুপুর ২:০৩ |
| সরারচর | দুপুর ২:৪২ | দুপুর ২:৪২ |
| কিশোরগঞ্জ | বিকেল ৩:৩০ | বিকেল ৩:৩০ |
| গৌরীপুর মাইন | বিকেল ৪:৫৯ | বিকেল ৪:৫৯ |
| আঠারবাড়ি | বিকেল ৪:১০ | — |
| ময়মনসিংহ | বিকেল ৫:৩৫ | — |
এই স্টেশনগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব বাজারের মতো জায়গাগুলো ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সংক্ষিপ্ত থামার সময়ে স্থানীয় সংস্কৃতি দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। যাত্রার সময় বাইরে দৃশ্যমানতা উপভোগ করুন। কুমিল্লার সবুজ মাঠ থেকে শুরু করে ব্রাহ্মপুত্রের তীরবর্তী এলাকা পর্যন্ত।
আরও জানতে পারেনঃ উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী (আপডেট তথ্য)
লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ ট্রেনের ভাড়া ও টিকিট কেনার পদ্ধতি
একটি মসৃণ ভ্রমণের জন্য টিকিট আগে থেকে বুক করা জরুরি বিশেষ করে বিশেষ ছুটি ও উৎসবের সময়। লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কাউন্টার রয়েছে কিন্তু অনলাইনে বুকিং সবচেয়ে সুবিধাজনক। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (railway.gov.bd) বা মোবাইল অ্যাপ ‘রেলশেখা’ ব্যবহার করে টিকিট কিনুন। অ্যাপটি বাংলা এবং ইংরেজিতে উপলব্ধ ও bkash বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়। টিকিট বুকিং ৩০ দিন আগে থেকে শুরু হয় ও ডিজিটাল টিকিট প্রিন্ট করে নিন। ভাড়া নির্ভর করে কোচের ধরনের ওপর। নিচে বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিট মূল্য দেওয়া হলো:
| কোচের নাম | টিকিট মূল্য | বৈশিষ্ট্য |
| স্নিগ্ধা | ৫১৮ টাকা | এসি, আরামদায়ক সিট, খাবার সার্ভিস |
| শোভন চেয়ার | ২৭০ টাকা | নন-এসি, সাধারণ চেয়ার |
ভ্রমণের টিপস ও নিরাপত্তা
যাত্রার আগে লাকসাম স্টেশনে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছান, কারণ চেক-ইন প্রক্রিয়া সময় নেয়। যাত্রার সময় পানি, স্ন্যাকস ও ওষুধ নিয়ে যান। কারণ মাঝপথে খাবারের দাম বেশি। নিরাপত্তার জন্য মোবাইল চার্জার ও আইডি কার্ড রাখুন। মহিলাদের জন্য লেডিজ কোচ আছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য প্লাস্টিক ব্যবহার এড়ান।
আরও জানতে পারেনঃ কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া | Kishorganj to Dhaka Train Schedule
ময়মনসিংহে যাওয়ার কারণ: আকর্ষণীয় স্থানসমূহ
ময়মনসিংহ পৌঁছে প্রথমে নাসিরাবাদের মিনার দেখুন যা ঐতিহাসিক মসজিদ। ব্রাহ্মপুত্র নদীতে বোট রাইড নি ও শাহ সুলতান গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করুন। শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে পারেন। স্থানীয় খাবার যেমন পিঠা-পুলি ও ইলিশ মাছ চেখে দেখুন। এই সবকিছু মিলিয়ে ময়মনসিংহ একটি সম্পূর্ণ ভ্রমণ গন্তব্য।
শেষ কথা
লাকসাম থেকে ময়মনসিংহ ট্রেন যাত্রা একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা যা সাশ্রয়ী ও দৃশ্যমানতা-সমৃদ্ধ। এই তথ্যের সাহায্যে আপনি সহজেই পরিকল্পনা করতে পারবেন। আরও তথ্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে এর হেল্প লাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। আপনার যাএা নিরাপদ যাত্রা হোক এই কামনা করি।