চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা জানেন কি? চট্টলা এক্সপ্রেস ২০০৬ সাল থেকে চালু হয়েছে ও এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের অন্যতম দ্রুতগামী ট্রেন। এর নামকরণ হয়েছে চট্টগ্রামের একটি ঐতিহাসিক এলাকার নামানুসারে, যা ট্রেনের গন্তব্যের সাথে যুক্ত। এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক। যাত্রার সময় প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা লাগে, যা রাস্তার যানজট এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আদর্শ। অনেক যাত্রী এটিকে পছন্দ করেন কারণ এতে আরামদায়ক সিট এবং মোটামুটি সময়ানুবর্তিতা রয়েছে। তবে আবহাওয়া বা রেল লাইনের সমস্যার কারণে কখনো কখনো দেরি হতে পারে, যা বাংলাদেশের রেল যাত্রার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
এখন আসুন মূল বিষয়ে, অর্থাৎ চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা নিয়ে। এই তথ্যগুলো সাম্প্রতিক আপডেট অনুসারে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রথমে সময়সূচী দেখে নেওয়া যাক।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
চট্টলা এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর হলো ৮০১ (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা) এবং ৮০২ (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম)। এটি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন চলে। নিচে বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
- ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (ট্রেন নম্বর ৮০২):
- প্রস্থান সময়: দুপুর ১:৪৫ মিনিট (১৩:৪৫)
- আগমন সময়: সন্ধ্যা ৮:১০ মিনিট (২০:১০)
- যাত্রার সময়কাল: প্রায় ৬ ঘণ্টা ২৫ মিনিট
- ছুটির দিন: শুক্রবার
- চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা (ট্রেন নম্বর ৮০১):
- প্রস্থান সময়: সকাল ৬:০০ মিনিট
- আগমন সময়: দুপুর ১২:১০ মিনিট
- যাত্রার সময়কাল: প্রায় ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট
- ছুটির দিন: শুক্রবার
এই সময়সূচী বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে আবহাওয়া বা প্রযুক্তিগত কারণে পরিবর্তন হতে পারে। যাত্রার আগে ই-টিকেট সাইট বা স্টেশন থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। আমার অভিজ্ঞতায়, সকালের ট্রেনটি সাধারণত কম দেরি করে, কারণ রাতের ট্রেনগুলোর মতো ট্রাফিক কম থাকে।
চট্টলা এক্সপ্রেসের স্টপেজের তালিকা
চট্টলা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক। প্রধান স্টপেজগুলো হলো:
- ঢাকা (কমলাপুর)
- বিমানবন্দর
- ভৈরব বাজার
- আখাউড়া
- কুমিল্লা
- লাকসাম
- ফেনী
- চট্টগ্রাম
প্রতিটি স্টপেজে থামার সময় ২-৫ মিনিট, যা খাবার কেনা বা বিশ্রামের জন্য যথেষ্ট। ফেনী স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব কম, তাই অনেক যাত্রী এখান থেকে নামেন। এই রুটে যাওয়ার সময় আপনি কুমিল্লার পাহাড়ি এলাকা এবং চা বাগানের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, যা যাত্রাকে আরও মনোরম করে তোলে।
চট্টলা এক্সপ্রেসের ভাড়ার তালিকা
চট্টলা এক্সপ্রেসের ভাড়া যুক্তিসঙ্গত এবং বিভিন্ন শ্রেণীর সিট অনুসারে নির্ধারিত। বাংলাদেশ রেলওয়ে সময়ে সময়ে ভাড়া আপডেট করে, কিন্তু ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে নিচের তালিকা দেওয়া হলো। এই ভাড়াগুলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের জন্য প্রযোজ্য, এবং ভ্যাট সহ।
| শ্রেণী | ভাড়া (টাকা) | বর্ণনা |
|---|---|---|
| শোভন | ৩৫০-৪০০ | সাধারণ সিট, কোনো এসি নেই, বাজেট যাত্রীদের জন্য উপযুক্ত |
| শোভন চেয়ার | ৪৫০-৫৫০ | আরামদায়ক চেয়ার সিট, জানালার পাশে বসার সুবিধা |
| ফার্স্ট ক্লাস সিট | ৬০০-৭০০ | আরও প্রশস্ত সিট, কম যাত্রী |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৭৫০-৮৫০ | এয়ার কন্ডিশনড, আরামদায়ক যাত্রা |
| এসি সিট | ৯০০-১০০০ | এসি সহ সিঙ্গেল সিট, প্রাইভেসি বেশি |
| এসি বার্থ | ১২০০-১৪০০ | ঘুমানোর সুবিধা সহ এসি কেবিন |
| ফার্স্ট ক্লাস বার্থ | ৮০০-১২০০ | নন-এসি বার্থ, রাতের যাত্রার জন্য |
এই ভাড়াগুলো আনুমানিক এবং স্টেশন থেকে স্টেশন ভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ফেনী থেকে ঢাকা যাওয়ার ভাড়া কম হবে। শিশু এবং প্রবীণদের জন্য ছাড় রয়েছে, যা টিকেট কেনার সময় জেনে নিন। আমার সাজেশন হলো, যদি আপনি লং জার্নির জন্য যান তাহলে স্নিগ্ধা বা এসি সিট নেওয়া ভালো, কারণ গরমের সময় শোভন ক্লাস অস্বস্তিকর হতে পারে।
চট্টলা এক্সপ্রেসের টিকেট কেনার উপায়
চট্টলা এক্সপ্রেসের টিকেট কেনা খুব সহজ। আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে কিনতে পারেন। এছাড়া কমলাপুর বা চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে কেনা যায়। অনলাইন টিকেটের জন্য NID বা পাসপোর্ট নম্বর দরকার, এবং পেমেন্ট মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড দিয়ে করা যায়। যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে টিকেট বুকিং শুরু হয়, তাই অগ্রিম পরিকল্পনা করুন। পিক সিজনে, যেমন ঈদের সময়, টিকেট দ্রুত ফুরিয়ে যায়, তাই তাড়াতাড়ি বুক করুন। আমি একবার শেষ মুহূর্তে টিকেট না পেয়ে বাসে যেতে হয়েছে, যা অস্বস্তিকর ছিল।
যাত্রার টিপস এবং সতর্কতা
চট্টলা এক্সপ্রেসে যাত্রা করার আগে কয়েকটি টিপস মেনে চলুন যাতে আপনার অভিজ্ঞতা ভালো হয়। প্রথমত, সকালের ট্রেন নিলে হালকা নাশতা সাথে নিন, কারণ ট্রেনে খাবারের মান সাধারণত মাঝারি। স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য যানজট বিবেচনা করে সময় রাখুন। ট্রেনে চুরির ঘটনা কম, তবে লাগেজ লক করে রাখুন। গরমের সময় এসি ক্লাস নেওয়া ভালো, আর শীতকালে নন-এসি যথেষ্ট। পরিবেশ রক্ষার জন্য প্লাস্টিক ব্যাগ এড়িয়ে চলুন এবং ট্রেন পরিষ্কার রাখুন। যদি আপনি পর্যটক হন, তাহলে চট্টগ্রাম পৌঁছে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন, কারণ চট্টলা এক্সপ্রেস সেখানকার গেটওয়ে।
যাত্রার সময় দেরি হলে ধৈর্য ধরুন; বাংলাদেশের রেল সিস্টেম উন্নয়নশীল, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক উন্নতি হয়েছে, যেমন নতুন ট্রেন এবং লাইন এক্সটেনশন। যদি আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তাহলে মেডিসিন সাথে রাখুন, কারণ ট্রেনে মেডিকেল সুবিধা সীমিত।
আরও জানতে পারেনঃ ঢাকা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী
শেষ কথা
সারাংশে বলা যায়, চট্টলা এক্সপ্রেস বাংলাদেশের রেল যাত্রার একটি নির্ভরযোগ্য অংশ, যা ঢাকা এবং চট্টগ্রামকে যুক্ত করে। এর সময়সূচী এবং ভাড়া যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক, এবং সঠিক পরিকল্পনা করলে যাত্রা উপভোগ্য হয়। আশা করি এই আর্টিকেল আপনার যাত্রা পরিকল্পনায় সাহায্য করবে। যদি কোনো আপডেট থাকে, তাহলে অফিসিয়াল সাইট চেক করুন। নিরাপদ যাত্রা কামনা করছি!